মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলার ঐতিহ্য

বহামান বাংলার ঐতিহ্যময় এক শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলা। রূপসী বাংলার অপরূপ নিদর্শণ এ অঞ্চলে রয়েছে সর্বজন পরিচিত হযরত মুহাম্মদ সাঃ পদ চিহ্ন সম্মলিত এবং বোরহান উদ্দিন  এর পবিত্র কদম রসূল দরবার শরীফ।জানা যায় ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক, হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর পদচিহ্ন সম্বলিতএকটি কালো পাথরকে কেন্দ্র করে নবীগঞ্জ গ্রামে কদমরসুল দরগাহটি গড়ে উঠে।ঐতিহাসিকদের মতে ৯৮৬ হিজরী মোতাবেক ১৫৮০ খ্রিষ্টাব্দে জনৈক মাছুম খানকাবুলী কর্তৃক কদমরসুল  দরগাহ শরীফ স্থাপিত হলেও এর বহু পূর্বে হাজী নুরমোহাম্মদ নামক এক সাধক হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর পবিত্র পদ চিহ্ন সম্বলিতপাথরটি সংগ্রহ করে নবীগঞ্জ গ্রামে নিয়ে আসেন।  দেশ বিদেশের বহু ধর্মপ্রাণমুসলমান এ দরগা শরীফ দর্শণ ও জিয়ারত করে থাকেন। এ মাটি যাদের চরনস্পর্শে পবিত্র তাদের মধ্যে শীষ মহলের অনেক জ্ঞানী গুনীর  অন্যতম। এ ছাড়াও এ অঞ্চলে জম্মগ্রহন করেছেন অসংখ্য কবি-সাহিত্যক, নাট্যকার, ডাক্তার, আইনজীবি, ইঞ্জিনিয়ারসহ স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ। একপাশে ব্রক্ষ্মপুত্র নদী অন্যপাশে শীতলক্ষ্যা নদীর উভয় পার ঘিরে আশেপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ; যা রীতিমতো মানুষকে আকৃষ্ট করে তুলে। বক্ষ্মপুত্র নদ ও শীতলক্ষ্যা নদী বিধৌত এ অঞ্চল ছিল প্রাকৃতিক রূপময়তা ও খাল-বিল, ডোবা নালায় পরিপূর্ণ  এক জোয়ার ভাটার অঞ্চল। কেবল শহর নারায়াগঞ্জ ব্যতিত এখানকার প্রায় অঞ্চলই ছিল জলাধারে নিমজ্জিত। ক্ষনে জোয়ার, ক্ষনে ভাটা, এক কথায় জোয়ার ভাটার এলাকাও বলা হতো নারায়ণগঞ্জ জেলাকে। প্রাচীন কালে পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠি এ অঞ্চলে এসে কর্তৃত্ব করতেন। আর নারায়ণগঞ্জের দক্ষিনাঞ্চলের পুরোটাই ছিল নদী গর্ভে নিমজ্জিত। ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে পর্তুগীজ জলদস্যুরা এখানে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তাদের বিচরন ছিল সারা বাংলায়। তাদের কবল থেকে এ অঞ্চলকে উদ্ধার করার জন্যই মোঘল আমলে প্রাদেশিক রাজধানী আবিস্কার করা হয়। সেই থেকে ধীরে ধীরে এ অঞ্চল জেগে ওঠে লোকালয় ঘিরে।

 

বন্দর উপজেলা সদর হতে ১.৫ কিঃ মিঃ দূরত্বে অবস্থিত এ দূর্গটি ঐতিহাসিকপুরাকীর্তির একটি নিদর্শণ। জানা যায় আনুমানিক ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান মীরজুমলা ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদীতে জলদস্যুদের নিধন করার জন্য শীতলক্ষ্যানদীর পূর্ব তীরবর্তী সোনাকান্দা এলাকায় এ দূর্গটি স্থাপন করেন।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৬টি নদী অর্থাৎ মেঘনা, শীতলক্ষ্যা, ব্রক্ষ্ণপুত্র, ধলেশ্বরী ও বালুনদীর অস্তিত্ব থাকলেও নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার আওতায় রয়েছে ৩টি নদী। নদীগুলো হলোঃ ১। শীতলক্ষ্যা, ২।ব্ক্ষ্মপুত্র নদ ও ৩। ধলেশ্বরীর মোহনাংশ । তবে শীতলক্ষ্যা ও ব্ক্ষপুত্র নদ থেকে এখানে ধলেশ্বরীর সীমানা সামান্য এলাকা নিয়ে অবসিহত। বলতে গেলে প্রায় ২৬ মাইল দীর্ঘ বুড়িগঙ্গা নদী সাভারের নিকট থেকে যমুনার শাখা নদী ধলেশ্বরী থেকে উৎপত্তি হয়েছে।

 

নামকরণঃ ১৯৬২ সনে বন্দর পুলিশ থানায় রূপান্তরিত হয়। কিন্তু বন্দর পুলিশ থানা অঞ্চলটি ১৯৮৩ সন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ মহকুমার, নারায়ণগঞ্জ সদর প্রশাসনিক সার্কেলের আওতাভূক্ত থাকে এবং এর একটি বিরাট অংশ ১৯৯৩ সন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ শহরের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার (যা বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন) অন্তর্ভূক্ত থাকে। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রি করণের আওতায় ১৯৮৩ সনের ১লা আগস্ট বন্দর উপজেলার সৃষ্টি হয় এবং ১৯৯৩ সনে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ববর্তী অঞ্চল নিয়ে কদমরসুল পৌরসভা গঠিত হয়।

 

উপজেলার অবস্থান ও সীমানাঃ এ উপজেলার পূর্ব ও উত্তরে সোনারগাঁ উপজেলা, পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা নদী ও নারায়ণগঞ্জ সদর এবং দক্ষিণে ধলেশ্বরী নদী ও মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা। ঢাকা শহর থেকে এ উপজেলার দূরত্ব মাত্র ২৫ কিঃ মিঃ। ঢাকা -চট্রগ্রাম মাহসড়কের মাধ্যমে রাজধানী ও বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকা থেকে সড়ক পথে কাঁচপুর ব্রীজ পার হয়ে ৩ কিঃ মিঃ পূর্বে মদনপুর চৌরাস্তার মোড় হতে দক্ষিণে মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কে অগ্রসর হলে ১১ কিঃ মিঃ দক্ষিণে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে পৌঁছে যায়। এছাড়া পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাথে নৌ-পথে (শীতলক্ষ্য, ধলেশ্বরী নদীপথে) যাতায়াত ব্যবস্থা রয়েছে।